শনিবার, জুন ২৫, ২০২২

জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

কলারোয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান নিশানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

কলারোয়া(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ॥
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ২ নং জাললাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান নিশানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নিশানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়,গত বুধবার (১৩ এপ্রিল) জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নিশান ভিজিএফ চাউলের কার্ড বিতরণ নিয়ে প্রত্যেক ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের নিয়ে মাসিক সভার আয়োজন করেন। ওই সভায় ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত প্রত্যেক ইউপি সদস্যদের জানিয়ে দেন যে, তার ইউনিয়নে এবার ৫০০ ভিজিএফ চালের কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০০ ভিজিএফ কার্ড আমি(চেয়ারম্যান) নিজে তালিকা করবো। বাকী ৪০০ কার্ড মহিলা ইউপি সদস্যসহ আপনারা পুরুষ ইউপি সদস্যগণ প্রত্যেক ওয়ার্ডে ভাগ করে নিয়ে আমার লোকজনের সাথে সমন্বয় করে তালিকা করবেন। ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান নিশানের এমন নির্দেশনার বিরুদ্ধে ইউনিয়নের ৮নং বুইতা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম প্রতিবাদ করে বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব আমরা কাদের সাথে সমন্বয় করে কার্ডের তালিকা করবো? ইউপি সদস্যের এমন প্রশ্নের চেয়ারম্যান সাহেব কোন সদ উত্তর না দিয়ে রাগান্বিত হয়ে সভা ছেড়ে চলে যান। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, পরের দিন চেয়ারম্যানের একান্ত লোক বুইতা গ্রামের হাবিবুল্লাহ ইউপি সদস্য মনিরুলকে ডেকে বলেন, তুই চেয়ারম্যানের কথার প্রতিবাদ করেছিস না, তুই তোর ওয়ার্ডে একটি কার্ডেরও তালিকা করতে পারবি না। ৮নং ওয়ার্ডের কার্ড আমি নিজে করবো বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে ওই ইউপি সদস্য বিষয়টি প্রত্যেক ইউপি সদস্যদের জানালে তারা সবাই নিন্দা জ্ঞাপন করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ওই ইউপি সদস্যসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টুর নিকট আসলে তারা জানতে পারেন এ বছর জালালাবাদ ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডের সংখ্যা ৫০০ নয়, ৬৪০টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এরপর ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নিশানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চালের কার্ড নিয়ে মিথ্যাচার, অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে ইউনিয়নবাসি জানান, চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান গেল নির্বাচনে আ’লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শপথ গ্রহনের পর থেকে তার বেপরোয়া মারমুখি আচরণ। ইউনিয়নে কাউকে মানুষ বলে গন্য না করা। ইতোমধ্যে তিনি ছাত্রলীগের এক
নেতাকে মারপিট, এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে অসৎ আচরণ, স্কুলে কমিটি গঠনে বাধাসহ

বিভিন্ন সন্ত্রসীমূলক কার্যকলাপ করে ইউনিয়নে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আর এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালায় তার পোষা কিছু নিজস্ব গুন্ডাবাহিনী দিয়ে। বর্তমানে ইউনিয়নে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। তাই তার এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে ইউনিয়ন বাসি যাতে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে, চলতে পারে সেদিকে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনাও করেছেন ইউনিয়নবাসি।

ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান নিশান জানান, বিষয়টি সত্য নয়্ধসঢ়; নিছক আমার  বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র আর কিছুই নয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জানান, এ ব্যাপারে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।



Comments are Closed

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: