রবিবার, মে ২৬, ২০২৪

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে বিলেতের নগরে

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে বিলেতের নগরে

আমার ছেলেবেলায় জীবননগর জায়গাটা কিন্তু মোটেও নগর ছিল না। তবু চুয়াডাঙ্গা জেলার ছোট্ট এই উপজেলাটা ছিল আমার ভীষণ আপন। ভোরের আলো ফোটার আগেই সাইকেল চালিয়ে প্রাইভেট পড়তে যেতাম। গাঁয়ের লোকের কত কথা যে শোনা লাগত। সেই আমি এখন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারে শিক্ষকতা করি। পেছনে ফিরে তাকালে অবাক লাগে। কোথা থেকে কোথায় এলাম!

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এখন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
ইসরাত জাহান
আমার বাবা নজরুল ইসলাম ছিলেন জীবননগরের একটি কলেজের উপাধ্যক্ষ। মা আয়েশা সুলতানা গৃহিণী। দুজনই চাইতেন, ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করে স্বমহিমায় আলোকিত হোক। শুধু লেখাপড়াই নয়, আমাদের সংস্কৃতিচর্চায়ও তাঁরা শুরু থেকেই সহায়তা করেছেন। গান, কবিতা, রচনা লেখার যত প্রতিযোগিতা হতো, সবকিছুতে নিয়ে যেতেন মা। ২০০৩ সালে জাতীয় পর্যায়ের আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পেয়েছিলাম। সে সময় থানা পর্যায় থেকে জেলা পর্যন্ত যাওয়াটাই ছিল আমার জন্য বিদেশ গমনের মতো।

এইচএসসিতে যখন জীবননগর ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম, পুরো বিভাগে আমরা মেয়ে ছিলাম মাত্র তিনজন। ক্লাস থেকে কোচিং—সব জায়গাতেই শুধু ছেলেদের আধিপত্য দেখেছি। তবু ২০০৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পুরো কলেজ থেকে শুধু আমিই জিপিএ–৫ পেয়ে গেলাম।

কিন্তু ভর্তি কোচিংয়ের জন্য ঢাকায় এসে যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলাম, তাতে মনে হলো স্কুল-কলেজে যা শিখেছি সবই ভুল। একে তো ঢাকা খুব একটা চিনি না, তার ওপর আগে কখনো মা-বাবা ছাড়া শহরে গিয়ে থাকিনি। কোচিংয়ের সেই তিনটা মাস যে কী কঠিন কেটেছে, ভাবলে এখনো অস্থির লাগে। ভর্তি পরীক্ষার আগে এটাই তো ছিল বড় পরীক্ষা। সব নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়াতে আমাকে নিয়ে দেশের আনাচকানাচে ছুটেছিল মা। বড় ভাই তখন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। আমারও ইচ্ছে ছিল, প্রকৌশলী হব। শেষ পর্যন্ত আমার স্থান হয় স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)



Comments are Closed

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: