শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪

গাংনী হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপচে পড়া ভীড়, হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তার ও নার্স

গাংনী হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপচে পড়া ভীড়, হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তার ও নার্স

রাব্বি আহমেদ, মেহেরপুরঃ মেহেরপুরের গাংনীতে একদিকে প্রচন্ড তাপদাহ অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গেল এক সপ্তাহ ধরে বয়ে যাওয়া তাপদাহ সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বৈদ্যুতিক লোডশেডিং।

এতে করে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগ বালাই। হাসপাতালগুলোতে রয়েছে রোগীদের উপচে পড়া ভীড়। রোগীরেকে সামলাতে ডাক্তার ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে হাসপাতালে ওষুধ পাচ্ছেন না বলে দাবী করেছেন রোগীরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, কলেরা স্যালাইনের কিছুটা সংকট রয়েছে। দাহিদা দেয়া হয়েছে।

চলছে প্রচণ্ড তাপদাহ। একদিকে গরম অন্যদিকে লোডশেডিং। গেল এক সপ্তাহে জেলায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠানামা করছে। ঠাটা পরা রৌদ্র সেই সাথে তাপদাহ যেন আগুনের লেলিহান শিখায় রূপ ধারণ করেছে। সকাল থেকে একটানা বিকেল পঁাচটা পর্যন্ত বয়ে চলা এই আবহাওয়ায় জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তাঘাটে বের হতে চাইছেন না। সব থেকে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। কাজ না করলে পেটে ভাত জুটবে না তাই এই তাপদাহকে উপেক্ষা করেও মাঠে বের হতে হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ায় দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগবালাই। অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশে বিক্রি করা শরবত কিনে খাচ্ছেন। এতে করে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। রোগীদের অধিকাংশই জ্বর, স্বর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও ডাইরিয়া রোগে আক্রান্ত। বিশেষ করে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বিভিন্ন হাসপাতালে রোগিদের উপচে পড়া ভীড়। পা ফেলার জায়গা নেই। মেঝে ও সিঁড়িতেও রোগীরা ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্স। শিশুদের কান্নায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। অনেকেই আউটডোরে পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর যে রোগির অবস্থা একটু সংকটাপন্ন তাকে ভর্তি রাখা হচ্ছে। রোগির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে ভর্তিকৃত রোগীরা জানিয়েছেন তারা ওষুধ পাচ্ছেন না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। শুধু সেবাটা পাচ্ছেন তারা। গাংনীর হাড়াভাঙ্গা গ্রামের জুরাইস ইসলাম জানান, তার আত্মীয় তিন দিন যাবত ভর্তি রয়েছে। ডাইরিয়া আক্রান্ত এ রোগীর খাবার স্যালাইন ঠিকমতো দিলেও কলেরা স্যালাইস বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ওয়ার্ড থেকে জানাণো হচ্ছে স্যালাইন সংকট। একই কথা জানালেন রাইপুরের আব্দুল আলীম ও থানাপাড়ার শামীম।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সুপ্রভারানী জানান, রোগীদের চাপের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও নার্সরা। গত ৭ দিনে রোগীর চাপ বেড়েছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে ৯২ জন রোগী। এসব রোগীদের অধিকাংশ ডাইরিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। রোগীদের জন্য খাবার স্যালাইন সংকট নেই। তবে কলেরা স্যালাইনের কিছুটা সংকট রয়েছে। চাহিদা দেয়া হয়েছে। সরবরাহ পাওয়া গেলেই সংকট কেটে যাবে।



Comments are Closed

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: