শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪

চুয়াডাঙ্গায় আগাম ভট্টা চাষের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা

চুয়াডাঙ্গায় আগাম ভট্টা চাষের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা

চুয়াডাঙ্গায় আগাম ভট্টা চাষের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা

ইমরান হোসেন: চুয়াডাঙ্গায় আগাম ভট্টাচাষে ঝুঁকেছে কৃষক। চুয়াডাঙ্গায় মোট আবাদি জমির প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ জমিতে চাষ করা হয় ভুট্টা। ভুট্টা এখন চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের একমাত্র নির্ভরযোগ্য অর্থকারী ফসল হিসেবে বিবেচিত। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সোনালী আঁশপাট চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকরা। পাট ও ধানের সঠিক মাত্রায় ফলন ও দাম না পাওয়ায় হতাশ চুয়াডাঙ্গার কৃষক। যেখানে এক একর পাট রোপণ থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত খরচ হয় ৬০থেকে ৭০ হাজার টাকা। ওই ফসল বি্ক্রি করে কৃষক পাই ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।এজন্য চুয়াডাঙ্গার কৃষক নির্ভরযোগ্য অর্থকারী ফসল হিসেবে বেছে নিয়েছে ভুট্টা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ভুট্টা এখন চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের প্রধান আবাদি ফসল। গত ১০ বছর ধরে ধান, গমসহ সব ধরনের আবাদকে ছাড়িয়ে ভুট্টার অবস্থান এখন শীর্ষে। জেলার মোট আবাদি জমির পরিমাণ ৯৭ হাজার ৫৮২ হেক্টর। যার অর্ধেক অংশেই ভুট্টার চাষ হয়। সারাদেশে মোট উৎপাদিত ভুট্টার ৫ ভাগের একভাগ চাষ হয় চুয়াডাঙ্গায়। চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমে ৪৬ হাজার ১২১ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর আবাদ হয়েছে ৪৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এ হিসাবে জেলায় মোট উৎপাদন হবে ৫ লাখ ৫২০ টন ভুট্টা।

কৃষকরা জানান, খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। বছরে দু’বার ভুট্টা চাষ করা যায়। নভেম্বর-ডিসেম্বর এবং মে-জুন ভুট্টা চাষের উপযোগী সময়। শীতকালে ফলন বেশি, তাই চাষিরা এ সময় আবাদও করে থাকেন বেশি।কৃষকরা আরও জানান, বিঘা প্রতি ধান আবাদ করে গড়ে ২৫-৩০ মণ ফলন পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ১৪-১৬ হাজার টাকা। অপরদিকে একই পরিমাণ জমিতে ভুট্টা আবাদ করে ফলন পাওয়া যায় ৪০-৪৫ মণ। যার বাজার মূল্য কম করে হলেও ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। সে কারণে চাষিরা ধানের আবাদ কমিয়ে ভুট্টার দিকে ঝুঁকছেন।

এ বিষয়ে জয়রামপুরের কৃষক জামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাট চাষে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অবশেষে নির্ভরযোগ্য ফসল হিসেবে ভুট্টা চাষ করছি।দিননাথপুর এর কৃষক রকিবুল হাসান এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কয়েক বছর আগে থেকেই ভুট্টা চাষের সাথে সম্পৃক্ত এ বছর তার ১৮ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ হবে।কিছু অংশ লাগানো হয়েছে কিছু অংশ লাগাতে বাকি আছে। আলমডাঙ্গার কৃষক শামীম হোসেন বলেন, আমি এবছর চার বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছিয় একমাত্র নির্ভরযোগ্য ফসল হিসাবে আমি ভুট্টাকে পেয়েছি।

 

ভুট্টা একমাত্র নির্ভরযোগ্য ফসল চুয়াডাঙ্গার চাষীদের এজন্যই অন্য ফসল চাষ ছেড়ে ভুট্টার দিকে ঝুঁকছে কৃষকরা। ভুট্টা চাষ যেন কৃষকদের বাঁচার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই ভুট্টার সঠিক দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। মজুদদার সিন্ডিকেট এর হাতে ধরাশয় তৃণমূলের কৃষক। চুয়াডাঙ্গা কৃষকদের দাবি কৃষকের ঘরে যখন ফসল আসে তখন ফসলের দাম কম হয়। কৃষকের ঘর থেকে ফসল ফুরিয়ে গেলেই সেই ফসলের দাম বেডে যায়। এমনটা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে সেদিকে সরকার ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য রাখতে হবে।



Comments are Closed

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: