শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪

“ব্যবসাবান্ধব” প্রত্যয়ে বেনাপোলে “আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৪” উদযাপণ

মোঃ সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- এবারের কাস্টমস দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে ‘মিলে নবীন-পুরানো অংশীজন, কাস্টমস করবে লক্ষ্য অর্জন’। ২০০৯ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন ২৬ জানুয়ারিকে কাস্টমস দিবস হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে বাংলাদেশ দিবসটি উদযাপন করছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে মতবিনিময় সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং বিশেষ পোস্টার ও উৎসাহব্যঞ্জক স্লোগান সম্বলিত স্টিকার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক কাস্টম দিবস-২০২৪ উপলক্ষ্যে সারা বিশ্বের ১৮৩টি দেশের ন্যায় ২৬ জানুয়ারী-২০২৪,শুক্রবার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাস্টম হাইস,বেনাপোলে দিবসটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সাথে পালিত হয়। কাস্টম হাউস বেনাপোলে অংশীজনদের নিয়ে সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে,  এর আগে কাস্টমস অফিসার ক্লাব প্রাঙ্গণে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসটি’র শুভ উদ্বোধণ ঘোষনা করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মিজ ফারজানা আফরোজ,সদস্য(কাস্টম ও ভ্যাট প্রশাসন),জাতীয় রাজস্ব বোর্ড,ঢাকা।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ কামরুজ্জামান,কমিশনার(কাস্টমস,এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট,যশোর) এবং জনাব শামছুর রহমান,সভাপতি(বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন)।

 

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ আব্দুল হাকিম(কমিশনার,কাস্টম হাউস,বেনাপোল।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব মোঃ সাফায়েত(যুগ্ম কমিশনার,কাস্টম হাউজ,বেনাপোল)।

 

এবারের কাস্টম দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় “কাস্টম এঙ্গেজিং ট্রেডিশনাল এন্ড নিউ পার্টনারস উইথ পারপোজ” এর উপর আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে “কি নোট পেপার” উপস্থাপণ করেন জনাব মোঃ হাফিজুল ইসলাম(যুগ্ম কমিশনার,কাস্টম হাউস,বেনাপোল)। ডেপুটি কমিশনার ছৈয়দুল আলম, প্রভাত কুমার সিংহ, রবীন্দ্র সিংহ, রাফেজা সুলতানাসহ আরো অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মিজ ফারজানা আফরোজ বলেন- “বিভিন্ন অংশীজনের সহযোগীতায় ২০৪১ সালে উন্নত,সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বালাদেশ কাস্টম কাজ করে যাবে। চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নসহ নানামুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণে বাংলাদেশ কাস্টমস অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে জ্ঞান চর্চা এবং পেশাগত উৎকর্ষ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো বেশি অবদান রাখবে”।

 

বিশেষ অতিথি জনাব কামরুজ্জামান বলেন- “রাজস্ব আহরণ ছাড়া ও বাংলাদেশ কাস্টমস অর্থনৈতিক নীতি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ণে ভূমিকা রাখছে। বিশ্ব পরিস্থিতিতে কাস্টমস এখন রাজস্ব আহরণ ছাড়াও ট্রেড ফেসিলিশন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি, আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকে। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট রাজস্বের ৪৪ হাজার ৯৫০ কোটি ৭২ লাখ টাকা বাংলাদেশ কাস্টমস থেকে এসেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় যার প্রবৃদ্ধির হার ৯.২৫ শতাংশ।

 

বিশেষ অতিথি শামছুর রহমান বলেন- “কাস্টম হাউস,বেনাপোল এর কার্যক্রম বর্তমান কমিশনার মহোদয়ের নেতৃত্বে গতিশীল রয়েছে। অদুর ভবিষ্যতে বেনাপোল বন্দর “ব্যবসাবান্ধব” হয়ে গড়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

সবশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব আব্দুল হাকিম এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন- ” নলেজ শেয়ারিং” এর মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমস কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর ও সফল করে তোলার জন্য প্রধান অতিথি সহ সকলকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

উল্লেখ্য,১৯৫০ সালের ১৫ ডিসেম্বর ব্রাসেলসে কাউন্সিল অব কাস্টমস কো-অপারেশন (সিসিসি) গঠিত হয়। দুই বছর পর ১৯৫২ সালের ৪ নভেম্বর শুরু হয় এর কার্যক্রম। ১৯৫৩ সালের ২৬ জানুয়ারি এর প্রথম সেশনে ইউরোপের ১৭টি দেশ উপস্থিত ছিল। সেসব দেশ বিশ্বব্যাপী এর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সূচনা করে।

১৯৯৪ সালে কাউন্সিল অব কাস্টমস কো-অপারেশনের নাম পাল্টে গঠিত হয় ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অরগানাইজেশন (ডব্লিউএইচও)। বর্তমানে ১৮৫টি দেশ এ সংগঠনের সদস্য। এ সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১৯৩টিতে উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।



Comments are Closed

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: