শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪

বগুড়য় বসতবাড়িতে তৈরি করা হতো পটকা হঠাৎ বিস্ফোরণ” শিশুসহ আহত ৪

বগুড়য় বসতবাড়িতে তৈরি করা হতো পটকা হঠাৎ বিস্ফোরণ” শিশুসহ আহত ৪

মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার

বগুড়ায় শহরের একটি বসতবাড়িতে রহস্যজনক বিস্ফোরণে চারজন আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে শহরের মালতিনগর দক্ষিণ পাড়ার রেজাউল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।এসময় বিস্ফোরণে ও দেয়ালের চাপায় পড়ে ৩ জন শিশুসহ চারজন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। বিকট বিস্ফোরণের পরপর হাজারো কৌতূহলী মানুষ ওই বাড়ির আশেপাশে ভিড় জমিয়েছে। এছাড়া খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
রেজাউল ইসলাম মালতিনগর এলাকায় খড়ির ব্যবসা করেন। বাড়িটি পটকা তৈরির ছোটখাট একটি কারখানা ছিল। তার মা রেজিয়া বসতবাড়িতে পটকা তৈরি করতেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।আহতরা হলেন- রেজাউলের স্ত্রী রেবেকা (৩৮), মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৫), ভাতিজি জিম (১৬) ও প্রতিবেশীর মেয়ে তাসনিম বুশরা (১৪)। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তাসনিম বুশরার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুশরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় নিয়ে গেছে তার পরিবার।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলী আশরাফ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯ টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। এগিয়ে এসে দেখি রহস্যজনক এই বিস্ফোরণে উড়ে গেছে ঘরের আসবাব, ভেঙে চুরমার হয়েছে বাড়ির দুটি ঘরের সমস্ত কিছু। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণের সময় উড়ে যাওয়া দেয়ালের বড় বড় টুকরা বাড়ীর আশপাশে পড়ে রয়েছে। এমনকি বাড়ীতে সেসময় থাকা ৩ শিশুসহ চারজন ভাঙ্গা দেয়ালের নিচে আহত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়।
বাড়ীর মালিক রেজাউল করিম বলেন, বাড়ী থেকে বের হয়ে নামাজ পড়তে যায়। নামাজরত অবস্থায় বিকট শব্দ শুনতে পাই। নামাজ শেষ বের হয়ে শুনি আমার বাড়ীতে বিস্ফোরণ হয়েছে। বাড়ী এসে দেখি আমার বাড়ী বিধস্ত হয়েছে। আমার স্ত্রী, মেয়ে, ভাতিজী ও প্রতিবেশী একজনের মেয়েটা আহত হয়ে পড়ে আছে। তবে কিভাবে কি হলো কিছু বুঝতে পারছি না।বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলী আশরাফ বলেন, বিকট শব্দে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে৷ এতে তিন শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী তাসনীন বুশরার অবস্থা আশংকাজনক।
তিনি আরও বলেন, কি থেকে এ বিস্ফোরণ হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি৷ তবে জানা গেছে ওই বাড়িতে আতশবাজি বানানোর কাজ করা হতো৷ ওই বাড়ি থেকে পটকাও উদ্ধার করা হয়েছে৷ তবুও আমাদের তদন্ত কাজ অব্যাহত আছে৷ফায়ার সার্ভিসের উপ- সহকারী পরিচালক খন্দকার আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলাম গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এই বিস্ফোরণ হতে পারে৷ কিন্তু আমরা এই বাড়ি থেকে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করেছি। তবে সেগুলো অক্ষত আছে। সিলিন্ডার লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ কিনা তা আমরাও তদন্ত করছি।



Comments are Closed

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: