বুধবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২২

সুখবর: ওমিক্রনেই অবসান করোনা মহামারির

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার করোনাভাইরাসকে একটি সাধারণ স্থানীয় রোগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে; যাকে সঙ্গী করে মানুষ বাঁচতে পারে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস মহামারি হিসাবে রয়ে গেলেও ওমিক্রনের অতি-দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া এটিকে সাধারণ রোগে পরিণত করবে।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) করোনাভাইরাস মহামারির বিষয়ে এই সুখবর শুনিয়েছে।

সাধারণ জনগণকে করোনাভাইরাসের টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইএমএ। সংস্থাটি বলেছে, বারবার বুস্টার ডোজ মহামারি মোকাবিলার টেকসই কোনও কৌশল নয়।

আমস্টারডাম-ভিত্তিক ইউরোপের এই ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভ্যাকসিন-কৌশলের প্রধান মারকো ক্যাভালেরি বলেছেন, কেউই জানেন না, ঠিক আমরা কখন সুরঙ্গের শেষ মাথায় পৌঁছাবো। তবে আমরা সেখানে পৌঁছাবোই।

তিনি বলেন, টিকাদান ছাড়াও ওমিক্রনের বিস্তারের কারণে প্রাকৃতিকভাবেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি তৈরি হবে। আমরা এমন একটি দৃশ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবো যে, যা মহামারি অবসানের কাছাকাছি হবে।

ওমিক্রনের উল্লম্ফনের কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আমরা এখনও মহামারির মাঝে রয়েছি, আমাদের সেটি ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, আগামী দুই মাসের মধ্যে ইউরোপের অর্ধেকের বেশি মানুষ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হতে পারেন। কোভিডের বারবার বুস্টার ডোজ মহামারি মোকাবিলার স্থায়ী কৌশল নয় বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতো একইভাবে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ইএমএর প্রধান মারকো ক্যাভালেরি বলেছেন, প্রত্যেক চার মাস পর পর যদি আমাদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার কৌশল থাকে, তাহলে আমাদের শরীরে ইমিউনিটির প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত ধারাবাহিকভাবে বুস্টার ডোজ প্রয়োগের ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অবসাদ তৈরির ঝুঁকিও আছে।

তিনি বলেছেন, বারবার বুস্টার ডোজ প্রয়োগের পরিবর্তে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে এবং শীতকাল শুরুর আগে দেশগুলো বুস্টার ডোজ প্রয়োগ শুরুর ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে পারে; যেভাবে বর্তমানে অন্যান্য ফ্লু ভ্যাকসিনের প্রয়োগ করা হয়।

পৃথকভাবে ইএমএ বলছে, অতি-সংক্রামক হওয়া সত্ত্বেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ডেল্টা প্রজাতির তুলনায় এক তৃতীয়াংশ বলে বিভিন্ন গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন কয়েকটি গবেষণা নিশ্চিত করেছে, ওমিক্রনের কারণে নতুন করে কভিড শনাক্তে রেকর্ড হলেও রোগের তীব্রতা ও হাসপাতালে ভর্তির হার তেমন বাড়েনি। এটি মহামারি অবসানের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ বলছেন, এটা করোনা মহামারি নিয়ে চিন্তিত না হওয়ার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইমিউনোলজিস্ট মনিকা গান্ধী বলেন, ‘আমরা এখন সম্পূর্ণ আলাদা একটি পর্যায়ে রয়েছি। ভাইরাসটি সব সময়ের জন্য আমাদের সঙ্গী হতে যাচ্ছে। তবে আমার আশা, এই ধরনটি (ওমিক্রন) আমাদের শরীরে অনেক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে, যা এই মহামারির অবসান ঘটাবে।’

আগের ধরনগুলোর তুলনায় ওমিক্রন তত মারাত্মক না হওয়ার পেছনে কয়েকটি নিয়ামক কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কভিডের তীব্রতা কেমন হবে তার একটি নিয়ামক হচ্ছে ফুসফুসকে সংক্রমিত করার সক্ষমতা। করোনার সংক্রমণ সাধারণত নাক থেকে শুরু হয়ে গলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। হালকা সংক্রমণের ক্ষেত্রে ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের ওপরের অংশের নিচে আর সংক্রমিত করে না। ভাইরাস আরো নিচে নেমে ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছলেই সাধারণত তীব্র লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

গত সপ্তাহে পাঁচটি পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, ডেল্টাসহ আগের ধরন যতটা সহজে ফুসফুসকে সংক্রমিত করেছে, ওমিক্রন ততটা করেনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মনিকা গান্ধী বলেন, তাঁর আশা, উচ্চ সংক্রমণক্ষমতা এবং তীব্র অসুস্থতার ঘটনা না ঘটা এটাই ইঙ্গিত দেয় যে এ মহামারি অবসানের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।



Comments are Closed

%d bloggers like this: