বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২২

সাতক্ষীরা র‌্যাব ক্যাম্পে সাংবাদিক সরোয়ারকে ৭ ঘন্টা আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা আদালত চত্ত্বরের কাছ থেকে জোর করে তুলে নিয়ে সাতক্ষীরার বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম সরোয়ারকে টানা ৭ ঘন্টা মানসিক নির্যাতন ও হয়রানি করেছে র‌্যাব-৬ এর কোম্পানি পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাকে তারা হেনস্থা করে মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। আর এই ঘটনায় সাতক্ষীরার সাংবাদিক মহলে নিন্দা ও প্রতিবাদের উঠেছে।

হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে সাংবাদিক গোলাম সরোয়ার বলেন, একটি মারামারির ঘটনায় আহত হওয়া তার ভগ্নিপতি নজরুল ইসলামকে নিয়ে মোটরসাইকেলে সাতক্ষীরার আদালত চত্ত্বর ত্যাগ করতেই র‌্যাবের মুখোমুখি হন। এসময় র‌্যাবের সাতক্ষীরা কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইশতিয়াক হোসাইনের নেতৃত্বে একদল সদস্য জবরদস্তি করে নজরুল ইসলামকে তাদের গাড়িতে তুলে নেয় এবং গোলাম সরোয়ারের মোটরসাইকেলে র‌্যাবের আরেক সদস্য শহরের সুন্দরবন টেস্কটাইল মিলস্থ র‌্যাব ক্যাম্পে পৌছান।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় এ ঘটনার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তাকে সেখানে আটকে রাখা হয়। এসময় তার মোবাইল এবং গাড়ির চাবিও কেড়ে নেয় তারা। মানসিক নির্যাতন শেষে তাকে একটি মুচলেকা পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে রাত ১১টায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এ ঘটনা নিয়ে কাউকে কিছু না বলার যেন চাপ দেওয়া হয় তার ওপর এবং শুক্রবার সকাল ৭টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট মারামারির ঘটনায় জড়িত তার ভাগ্নে ফজর আলীকে হাজির করার কথা জানিয়ে দেয়। গোলাম সরোয়ার অভিযোগ করে বলেন, রাত ১১টায় তাকে ছেড়ে দিলেও শুক্রবার সকালে ফের র‌্যাব তার সাথে হুমকির স্বরে বলে তাকে ১০ মিনিটের মধ্যে আবার ক্যাম্পে হাজির হতে হবে এবং তার ভাগ্নে ফজর আলীকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।

তিনি জানান, ‘আমি একজন সংবাদকর্মী একথা বারবার বলা সত্ত্বেও তারা আমার কথায় কর্ণপাত করেননি। এমনকি আমার পত্রিকার আইডি কার্ড যথাযথ কিনা তা নিয়েও নানা প্রশ্ন তোলেন’। বনিক বার্তা পত্রিকা কোথা থেকে বের হয় এমন প্রশ্নও করেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। তারা গোলাম সরোয়ারের কোন কথাকেই গ্রহণ না করে মানসিক নির্যাতন বাড়াতে থাকে। একই সময় ভিন্ন গোপন কক্ষে নিয়ে তার আহত ভগ্নিপতি নজরুল ইসলামের ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে।

এ ঘটনা সকালে জানাজানি হবার পর সাংবাদিকরা খোজ নিয়ে জানতে পারেন সাতক্ষীরা আদালত চত্ত্বরের ক্যান্টিনে নজরুল ইসলামের সাথে অপর একটি গ্রুপের ব্যবসা নিয়ে মারামারির যে ঘটনা ঘটে তাতে দুই পক্ষই কমবেশি আহত হলেও কেউ আইনের আশ্রয় নেননি। ফলে শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোন মামলা না হওয়া সত্ত্বেও র‌্যাব সদস্যরা অতি উৎসাহী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিক গোলাম সরোয়ার ও তার বোনজামাই নজরুল ইসলামকে হুমকি ধামকি দিয়ে তাদের সাথে যেতে বাধ্য করে। সাতক্ষীরা থানায় খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, শুক্রবার বিকাল ৩টার পর যে মামলাটি হয়েছে সে মামলায় গোলাম সরোয়ার কোন আসামীও নন। এরপরও র‌্যাব কেন এত বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটালো তা নিয়ে সর্বমহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এব্যাপারে সাংবাদিকরা র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করলে র‌্যাব-৬ স্কোয়াড্রন লিডার ইশতিয়ার হোসাইন বলেন, এই মামলার আরেক আসামীকে গ্রেপ্তার করার জন্য তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলাম। তাকে কোন অসম্মান করা হয়নি।



Comments are Closed

%d bloggers like this: